কালিয়াচকে উত্তপ্ত ভোটার তালিকা বিতর্ক, মধ্যরাতে উদ্ধার ৭ জুডিশিয়াল অফিসার, লাঠিচার্জ পুলিশের

ভোটার তালিকায় নাম না ওঠাকে কেন্দ্র করে মালদহের কালিয়াচকে তীব্র উত্তেজনার জেরে অবশেষে মধ্যরাতে ঘেরাওমুক্ত করা হল সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ অবরোধ ও উত্তেজনার মধ্যে আটকে পড়া আধিকারিকদের উদ্ধার করেন। যদিও উদ্ধার অভিযানের সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ কনভয়ে হামলার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষমেশ লাঠিচার্জ করে পুলিশ।সূত্রের খবর, বুধবার বিকেল থেকেই কালিয়াচক এলাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।অভিযোগ ভোটার তালিকায় নাম না ওঠায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ এসআইআরের কাজে যাওয়া জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক বিডিও অফিসে প্রায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয় সাতজন অফিসারকে। তাঁদের মধ্যে তিনজন বিচারক, যাঁদের মধ্যে একজন মহিলা বিচারকও ছিলেন।একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বসেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। সন্ধ্যা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। অভিযোগ ওঠে, এত বড় অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হলেও শুরুতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ছিল না। এই নিয়েই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে বিভিন্ন মহলে।রাত গভীর হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন সক্রিয় হয়। পুলিশ সুপার কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন এবং পরিকল্পিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। নিরাপত্তার বলয়ে জুডিশিয়াল অফিসারদের বের করে আনা হয় অবরুদ্ধ এলাকা থেকে। যদিও সেই সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ কনভয় লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ। এরপরই পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।অবশেষে রাতেই আন্দোলনকারীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন গোটা ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে। মালদহের জেলাশাসক এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছেও বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তবে পুরো ঘটনাটি রাতেই হাই কোর্টকে জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল এই ঘটনায়। প্রশাসনের তরফে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *