হিংসা বরদাস্ত নয়, অবাধ শান্তিপূর্ণ ভোটই লক্ষ্য, জ্ঞানেশ কুমার
পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।এমনই বার্তা দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের। কলকাতায় কমিশনের ফুল বেঞ্চের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, ভোটের সময় কোনও ধরনের হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।কোনও বৈধ ভোটারের নামও তালিকা থেকে বাদ যাবে না।সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। সকলের বাকস্বাধীনতা আছে। রাজনৈতিক দল কিছু বলতেই পারে। আমরা রাজনৈতিক মন্তব্যের উত্তর দিই না।” সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ধারাবাহিক আক্রমণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে এই মন্তব্য করেন তিনি।ভোটের সময় প্রশাসনিক কর্মী বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তাঁর কথায়, ভোট প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নির্ভুল রাখতে কমিশন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।এসআইআর বা বিশেষ সারাংশ সংশোধন প্রসঙ্গে জ্ঞানেশ জানান, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না। তিনি আরও বলেন, এসআইআরের মূল লক্ষ্য হল একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা।ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হবে। প্রতিটি বুথে থাকবে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র। কমিশন জানিয়েছে, কোনও বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার রাখা হবে না, যাতে ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ হয়।ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব ভোটকেন্দ্রে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও ইসিআইনেট অ্যাপ এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রতি দু’ঘণ্টা অন্তর ভোটদানের হার আপলোড করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বুথের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় মোবাইল রেখে তবেই ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন ভোটাররা।ইভিএম নিয়ে স্বচ্ছতা বাড়াতেও একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। কোনও প্রার্থী চাইলে নির্বাচনের ফল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে ইভিএম পরীক্ষা করাতে পারবেন। পাশাপাশি ইভিএমে প্রার্থীদের রঙিন ছবিও থাকবে বলে জানিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার।যুব সমাজকে ভোটদানে উৎসাহিত করতে কলেজে কলেজে প্রচার চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে কমিশন।বঙ্গে ৮০ হাজারেরও বেশি বুথ থাকবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।এদিকে পশ্চিমবঙ্গে ভোট কত দফায় হবে, তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পরে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ ইতিমধ্যেই রাজ্যের ২৩ জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। কমিশনের প্রাথমিক মূল্যায়ন, রাজ্যে নির্বাচন করার মতো পরিবেশ রয়েছে।তিন দিনের রাজ্য সফরের শেষ দিনে কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। কমিশনের দাবি, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন করাতেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।





