এসআইআর মঞ্চে ক্যানভাসে প্রতিবাদের ছবি মুখ্যমন্ত্রীর তুলিতে

ধর্মতলায় এসআইআর এর বিরুদ্ধে চলা ধর্নামঞ্চের পঞ্চম দিনে এক ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক উত্তাপ, জোরালো ভাষণ এবং স্লোগানের মাঝেই তিনি কিছুটা সময় বের করে নিজের শিল্পী সত্ত্বাকে ফুটিয়ে তুললেন তুলির টানে। তবে এই শিল্প নিছক কোনো শখ বা ব্যক্তিগত বিনোদনের জন্য নয়, বরং এটি ছিল এক গভীর রাজনৈতিক ও মানবিক প্রতিবাদের ভাষা। ধর্নামঞ্চেই একটি ক্যানভাসে রং-তুলি নিয়ে ছবি আঁকতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে।মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁর এই শিল্পকর্মের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ক্যানভাসে ফুটে ওঠা তাঁর এই চিত্রটি এসআইআর-এর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতীকী প্রতিবাদ। এই বিতর্কিত এবং কঠোর প্রক্রিয়ার কারণে যে সমস্ত সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, মূলত তাঁদের স্মৃতিতেই এই ছবি উৎসর্গ করেছেন তিনি।জানা গিয়েছে, ক্যানভাসে আঁকা ছবির মাধ্যমে নিহতদের প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং তার পাশে মালা রাখা হয়েছে। এই মাল্যদান আসলে সেই সমস্ত হতভাগ্য মানুষদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের প্রতীক। মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, রাজনীতি এবং শিল্পের এই মেলবন্ধনটি কোনোভাবেই ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্যের জন্য নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের শক্তিশালী মাধ্যম।নিজের এই শৈল্পিক উদ্যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “এই পেন্টিংটি এসআইআর-এর বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ।” তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও যোগ করেন যে, “এটি কেবল প্রতিবাদ জানানোর একটি উপায় মাত্র, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।” এই ছবি আঁকার দৃশ্যটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই সুপরিচিত পরিচয়টিকে আরও একবার সকলের সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে তিনি কেবল একজন দুঁদে রাজনীতিক ও দক্ষ প্রশাসকই নন, বরং একজন সংবেদনশীল শিল্পীও। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বারবার তাঁর তুলির টানে সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন।এসআইআর এর মতো একটি কঠোর বিষয়ের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন চলছে, তখন ধর্নামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *