ফালাকাটার দেওগাঁওয়ে রাতের অশান্তি, বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষে আহত একাধিক, এলাকায় কড়া নিরাপত্তা

আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটার দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় শুক্রবার গভীর রাতে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে হঠাৎ করেই সংঘর্ষ বাঁধে, যা দ্রুতই মারপিটের রূপ নেয়। এই ঘটনায় অন্তত চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম দেওগাঁও এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাতের দিকে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতাহাতি ও মারধরে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।এই ঘটনায় বিজেপি প্রার্থী দীপক বর্মন অভিযোগ করেন, তারা এলাকায় ভোট প্রচার চালানোর সময় তৃণমূলের কর্মীরা আচমকা তাদের ওপর হামলা চালায়। তাঁর দাবি, হামলার সময় দলের এক বুথ সভাপতির মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং একাধিক কর্মী গুরুতর জখম হন। তিনি এই ঘটনাকে পরিকল্পিত আক্রমণ বলে দাবি করেছেন।অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী দীপক বর্মন এবং তাঁর দলের কর্মীরাই প্রথমে উত্তেজক ভাষণ দিয়ে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করেন। এরপর তারাই তৃণমূল কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ তৃণমূলের।দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। ঘটনার পরপরই এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। রাতভর টহল চলে এবং উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।শনিবার সকালেও দেওগাঁও এলাকায় উত্তেজনার রেশ বজায় ছিল। যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোটা গ্রাম কার্যত কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যদিও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।নির্বাচনের আগে এই ধরনের সংঘর্ষ নতুন নয়, তবে ফের একবার রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। প্রশাসন দাবি করছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এবং শান্তি বজায় রাখতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *