জোট ভাঙল এআইমিম, হুমায়ুন কবির বিতর্কে বাংলায় একলা লড়াইয়ের পথে ওয়েইসির দল

হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষিতেই বড় সিদ্ধান্ত নিল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিম তিন (AIMIM)। দলটি স্পষ্ট জানিয়েছে, কবিরের বক্তব্য মুসলিম সমাজের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।এমন অবস্থানে তারা কোনোভাবেই নিজেদের যুক্ত রাখতে পারে না। ফলত,শুক্রবার থেকেই কবিরের দলের সঙ্গে তাদের জোট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।দলের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলার মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চিত। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধর্মনিরপেক্ষ শাসন থাকলেও, এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বাস্তব উন্নয়ন ঘটেনি বলেই দাবি মিমের। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং মৌলিক সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায় এখনও যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত।এই অভিযোগও উঠে এসেছে দলের বক্তব্যে।মিমের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব বরাবরই দাবি করে এসেছে যে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিজস্ব রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সেই নীতির সঙ্গেই সঙ্গতি রেখে, পশ্চিমবঙ্গেও তারা নিজেদের স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান আরও জোরদার করতে চাইছে। দলীয় সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তারা কোনো জোট ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাংলার নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষত সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে মিমের এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলি এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে তেমন প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে আড়ালে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেই খবর।হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক কতটা গভীর প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে এই মুহূর্তে এআইমিমের জোট ভাঙার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।দলটি আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয়, বরং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট ও স্বাধীন রাখতে চায়।আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ঘটনাপ্রবাহ বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *