ভোটের মুখে ইডির কড়া পদক্ষেপ,তৃতীয় বার তলব সুজিত রথীনকে, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর
পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। এই মামলায় রাজ্যের দুই মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রথিন ঘোষকে তৃতীয়বারের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসেই এই নিয়ে তিনবার তলব করা হল তাঁদের, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে এবারও যদি তাঁরা হাজিরা এড়ান, তাহলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এর আগে দুই মন্ত্রী ‘নির্বাচনী ব্যস্ততা’র কথা উল্লেখ করে ১৫ মে-র পরে হাজিরার সময় চেয়েছিলেন। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ইডি।ফলে ভোটের আবহেই তাঁদের হাজিরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।বর্তমানে দু’জনেই বিধানসভা ভোটের প্রার্থী।সুজিত বসু লড়ছেন বিধাননগর থেকে এবং রথিন ঘোষের কেন্দ্ট মধ্যমগ্রাম। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের তলব ঘিরে রাজনৈতিক তাৎপর্যও বাড়ছে। শাসক শিবির ইতিমধ্যেই এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে দেখাতে শুরু করেছে।এই মামলার প্রেক্ষাপটও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে রথিন ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে সুজিত বসুর দফতর ও বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তাঁর ঘনিষ্ঠদের ঠিকানাতেও তল্লাশি হয় বলে জানা গিয়েছে।শুধু এই দুই মন্ত্রীই নন, একই সময়কালে দেবাশিষ কুমারকেও অন্য একটি মামলায় তলব করে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। ফলে পুরসভা নিয়োগ সংক্রান্ত তদন্ত ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।গত ৬ এপ্রিল প্রথমে সুজিত বসুকে তলব করা হয়।ঠিক তার দু’দিন পর নোটিস যায় রথিন ঘোষের কাছেও। তবে দুই মন্ত্রীই হাজিরা দেননি। এরপর প্রকাশ্যে এসে ইডির বিরুদ্ধে ‘হেনস্থা’র অভিযোগ তুলেছিলেন সুজিত।ভোটের ঠিক আগে এই তলব ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হচ্ছে। একদিকে ইডির কড়া অবস্থান, অন্যদিকে শাসকদলের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ।সব মিলিয়ে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।





