৭২ ঘণ্টায় ‘ব্যান’ উঠবে? দেবের আশ্বাসে টলিউডে নতুন বিতর্ক, পালটা কড়া বার্তা ফেডারেশনের
তালসারি-কাণ্ডের জেরে উত্তাল টলিউডে মঙ্গলবারের বৈঠক শুধু প্রতিবাদের মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ‘বয়কট সংস্কৃতি’কে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুনোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় একজোট হয়েছেন তারকা থেকে টেকনিশিয়ান।এই সংহতির মধ্যেই উঠে এসেছে কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ।বৈঠকে ‘ম্যাজিক মোমেন্ট মোশন পিকচার্স’-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, অতীতে নিষিদ্ধ হওয়া শিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও জোরালো আলোচনা হয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ১৩ জন পরিচালকের দায়ের করা মামলার পর একাংশ শিল্পীর উপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি থাকার অভিযোগ ফের সামনে আসে।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিনেতা দেব জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ শিল্পীদের বিষয় নিয়ে আলাদা বৈঠক ডাকা হবে। তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে ‘ব্যান’ বা অসহযোগিতার সংস্কৃতি কাম্য নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নির্দিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন। দেবের দাবি, প্রসেনজিৎ চট্ট্যোপাধ্যায়ের আশ্বাস অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর পথ তৈরি হতে পারে।দেব আরও বলেন, দীর্ঘদিন কাজের বাইরে থাকার ফলে বহু শিল্পী মানসিক ও আর্থিকভাবে চাপে পড়েছেন। সেই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বের করে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।তবে এই আশ্বাস ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস নাম না করে পালটা বার্তা দিয়ে স্পষ্ট করেন, সমস্যার সমাধান এত সহজ নয়। তাঁর কথায়, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কলাকুশলীরা ন্যূনতম মজুরি ও কাজের অধিকারের দাবিতে লড়াই চালাচ্ছেন। আদালতে সেই লড়াই চালাতে গিয়ে অনেককেই আর্থিক সঙ্কটে পড়তে হয়েছে।তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, আগে উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি কি ভিন্ন হতে পারত না? শুধু শিল্পী নয়, টেকনিশিয়ানদের স্বার্থ রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।এই বার্তাও দেন তিনি। তাঁর মতে, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া সহজ, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা অনেক কঠিন।সব মিলিয়ে, তালসারি-কাণ্ড টলিউডে একদিকে যেমন ঐক্যের ছবি তুলে ধরেছে, তেমনই বহুদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, মতভেদ এবং কাঠামোগত সমস্যাকেও সামনে এনে দিয়েছে। এখন দেখার, ৭২ ঘণ্টার প্রতিশ্রুতি আদৌ বাস্তবে রূপ পায় কি না, নাকি এই বিতর্ক আরও দীর্ঘায়িত হয়।





