এসআইআর নিয়ে তীব্র বিতর্ক, ভোটার তালিকা বাদ পড়া ঘিরে বিরোধীদের ঐক্য উদ্যোগ
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়ার অভিযোগে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এসআইআর-বিরোধী ঐক্য উদ্যোগের পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও দাবি সামনে আনা হল।উদ্যোগের দাবি, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৯০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। প্রথম দফায় প্রায় ৬৪ লক্ষ এবং পরে আরও প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৭৭ কোটিতে, যা আগে ছিল প্রায় ৭.৬৬ কোটি। এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু, নারী, দলিত, মতুয়া, পরিযায়ী শ্রমিক ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ।এদিনের বৈঠকে আরও জানানো হয়, প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাচ্ছে। ফলে পরবর্তীতে ট্রাইবুনালের মাধ্যমে নাম পুনর্বহাল হলেও প্রথম দফার ভোটে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না। প্রায় ৬০ লক্ষ নাম এখনও বিবেচনাধীন ছিল, যার মধ্যে অধিকাংশ মামলার নিষ্পত্তি হলেও উল্লেখযোগ্য অংশের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি জানান তাঁরা।বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, ট্রাইবুনাল ব্যবস্থা এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ১৯টির মধ্যে মাত্র ৬টি ট্রাইবুনালের পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের কাছে কার্যকর প্রতিকার ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এর ফলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মানসিক চাপে কিছু চরম ঘটনার অভিযোগও সামনে এসেছে।একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে। গ্রেফতার ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির পাশাপাশি বৃহৎ অংশের মূলধারার মিডিয়ার বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারের অভিযোগও একই ভাবে প্রভাব ফেলেছে বলেই দাবি এই সংগঠনের। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করছে বলে দাবি করেন তাঁরা।এই পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচনকে “নৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ” বলে উল্লেখ করেছে এই সংগঠন।তাদের মতে, মূল রাজনৈতিক দলগুলির নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং ধর্মীয় মেরুকরণকে উসকে দিচ্ছে।এস আই আর বিরোধী ঐক্য উদ্যোগ মঞ্চের দাবিগুকির মধ্যে মূল দাবিগুলি হল:এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল, এনআরসি-সহ নাগরিকত্ব যাচাই বন্ধ, বাদ পড়া ভোটারদের পুনর্বহাল এবং গ্রেফতার আন্দোলনকারীদের মুক্তি। নিরপেক্ষ তদন্ত, ট্রাইবুনাল প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা এবং সকলের জন্য সার্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।উদ্যোগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে কোনো নির্বাচন গণতান্ত্রিক হতে পারে না। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাকও দেওয়া হয়েছে।এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলপন সুজাত ভদ্র,গায়িকা মৌসুমী ভৌমিক,সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস,প্রফেসর শৈফুল্লাহ,নজরুল জমাদার সহ আরও অনেকে।





