বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ শ্রমিক,৭ জন আশঙ্কাজনক, নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে রামগড়ে জ্বলল বিক্ষোভের আগুন
ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার আরাগাড়ায় অবস্থিত ঝাড়খণ্ড স্টিল প্ল্যান্টে ভোররাতে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণে কমপক্ষে নয়জন শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৪টার সময়। প্ল্যান্টে নিয়মিত কাজ চলছিল। হঠাৎ বিস্ফোরণের বিকট শব্দে গোটা কারখানায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বিস্ফোরণস্থল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের পরপরই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে বহু শ্রমিক প্রাণ বাঁচাতে ছুটে পালাতে বাধ্য হন। গুরুতর দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন অখিলা রায়, ব্রিজলাল বেদিয়া, রাজবালান যাদব, মহেশ মাহাতো, অশোক বেদিয়া, পণ্ডিতজি ওরফে রাজু ঝা, সোতু সা, শঙ্কর বেদিয়া এবং আশিয়া। আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, যাঁদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক তাঁদের রাঁচির দেব কমল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, সাতজনের শরীরের ৮০-৯০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গিয়েছে।
এই দুর্ঘটনার জেরে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছিল না এবং যথাযথ সতর্কতাও নেওয়া হয়নি। তাঁদের মতে, সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে এই বিপর্যয় এড়ানো যেত।
ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিক ও গ্রামবাসীরা। মান্ডুর বিধায়ক নির্মল মাহাতোর নেতৃত্বে প্ল্যান্টের গেটের বাইরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্ল্যান্ট বন্ধ রাখতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, শ্রমিকদের শোষণ করা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত মজুরি ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা দেওয়া হয় না।
রামগড় পৌর পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান রণধীর গুপ্ত জানান, এত বড় একটি শিল্প কারখানায় জরুরি পরিষেবার অভাব চরম উদ্বেগজনক। তাঁর দাবি, প্ল্যান্টে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় স্থানীয়রাই ব্যক্তিগত গাড়িতে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেন। পাশাপাশি, এলাকায় দূষণের মাত্রাও অত্যন্ত বেশি বলে অভিযোগ ওঠে।
এদিকে, খবর পেয়ে রামগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও নিরাপত্তা গাফিলতিকেই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।





