পাঁচ দশক পর ফের চাঁদের পথে মানুষ, সফল উৎক্ষেপণে ইতিহাস গড়ল NASAর Artemis II
অবশেষে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব। প্রায় পাঁচ দশক পর আবার মানুষকে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দিল মহাকাশযান। NASA-র Artemis II মিশনের সফল উৎক্ষেপণ নতুন করে মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করল।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় এই মানববাহী মহাকাশযান। চারজন নভশ্চরকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই মিশন, যার লক্ষ্য চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে পৃথিবীতে ফেরা। যদিও এই মিশনে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করা হবে না, তবুও ভবিষ্যতের মানব অভিযানের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।উল্লেখযোগ্য ভাবে, ১৯৬৯ সালে Neil Armstrong প্রথম চাঁদের মাটিতে পা রাখার পর থেকে মানব সভ্যতার মহাকাশ অভিযানে এক নতুন দিগন্ত খুলেছিল। অ্যাপোলো ১১ মিশনের পর আরও কয়েকটি চন্দ্রাভিযান হলেও, ১৯৭২ সালের পর থেকে আর কোনও মানববাহী মহাকাশযান চাঁদের পথে যায়নি। সেই দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটাল Artemis II।এই মিশনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদের মাটিতে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে NASA। বিশেষ করে Artemis III মিশনের মাধ্যমে ফের চাঁদের মাটিতে নভশ্চর নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদে ঘাঁটি তৈরি করা গেলে তা ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে মানব অভিযানের পথও প্রশস্ত করবে।প্রযুক্তিগত দিক থেকেও Artemis II অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মের স্পেসক্রাফ্ট, উন্নত লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এই মিশনের মাধ্যমেই পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশযাত্রায় মানুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতাও পর্যবেক্ষণ করা হবে।সব মিলিয়ে, পাঁচ দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মানবজাতির চন্দ্রাভিযান ফের নতুন গতি পেল। এই সফল উৎক্ষেপণ শুধু আমেরিকার নয়, গোটা বিশ্বের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জন্য এক বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর ভবিষ্যতের দিকে।চাঁদের মাটিতে আবার মানুষের পদচিহ্ন কবে পড়ে, সেটাই এখন দেখার।





