মাঠেই প্রচার, ফিটনেসেই ফোকাস শান্তিপুরে ‘গ্রাউন্ড কানেকশন’এ এগিয়ে বিজেপির স্বপন দাস
শান্তিপুর বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারের চেনা ছবির বাইরে এক আলাদা সমীকরণ তৈরি করছেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী স্বপন দাস। পেশায় প্রাক্তন শরীরচর্চা শিক্ষক। এই প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে যেমন সক্রিয়, তেমনি প্রতিদিনের অভ্যাসে সকালের মাঠে শরীর চর্চাকেই পরিণত করেছেন নিজের প্রচারের অন্যতম শক্তিতে। ফলে দলীয় সভা মিছিলের বাইরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলতে তিনি অনেকটাই এগিয়ে, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।প্রতিদিন ভোরে শান্তিপুরের বিভিন্ন মাঠে দেখা যায় স্বপন দাসকে। কখনও দৌড়, কখনও হালকা ব্যায়াম, কখনও বা স্থানীয়দের সঙ্গে শরীরচর্চায় অংশ নেওয়া।এই নিয়মিত উপস্থিতিই তাঁকে অন্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা করে তুলছে।মঙ্গলবার সকালেও সেই একই ছবি ধরা পড়ল। মাঠে শরীরচর্চা শেষে চায়ের আড্ডায় মেতে উঠলেন তিনি।আর সেখানেই শুরু হল অনানুষ্ঠানিক জনসংযোগ। রাজনৈতিক ভাষণের চেয়ে অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত এই মেলামেশা, যেখানে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন প্রার্থী।স্বপন দাস নিজেও জানাচ্ছেন, এটি তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। শিক্ষকতা জীবনের সময় থেকেই শরীরচর্চা তাঁর দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। প্রার্থী হওয়ার পর সেই অভ্যাসই এখন রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায়, “মাঠে আসা, শরীরচর্চা করা আর সবার সঙ্গে দেখা করা।এটাই আমার জীবনের অংশ। এখন সেটা প্রচারের মাধ্যমও হয়ে উঠেছে।”এই ‘গ্রাউন্ড কানেকশন’ই তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, প্রচারের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এই ধরনের যোগাযোগ ভোটারদের কাছে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফিটনেস ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর বার্তাও তুলে ধরছেন তিনি।অন্যদিকে, সকালে মাঠে আসা সাধারণ মানুষদের প্রতিক্রিয়াতেও মিলছে ইতিবাচক সুর। দলমত নির্বিশেষে অনেকেই মনে করছেন, মাঠের মানুষ যদি বিধায়ক হন, তাহলে এলাকার ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে বাস্তব পরিবর্তন আসতে পারে। একজন স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “ওনার মতো কেউ যদি জিতে আসেন, তাহলে ছেলেমেয়েরা মাঠে আসতে উৎসাহ পাবে। এখনকার দিনে এটা খুব দরকার।”তবে রাজনৈতিক লড়াইয়ে শুধু ব্যক্তিগত ইমেজই শেষ কথা নয়।এটা মানছেন স্বপন দাস নিজেও। সংগঠন, দলীয় সমর্থন এবং নির্বাচনী ইস্যুগুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবুও নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে হাতিয়ার করে মানুষের কাছে পৌঁছনোর এই কৌশল যে নজর কেড়েছে, তা স্পষ্ট।শান্তিপুরের ভোটের লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে,এই কেন্দ্রের রাজনীতি শুধু মঞ্চের ভাষণে সীমাবদ্ধ নেই, বরং মাঠের ঘাসের উপর দাঁড়িয়েও তৈরি হচ্ছে জনমত। আর সেই লড়াইয়ে আপাতত ফিটনেস, নিয়মিত এবং সরাসরি সংযোগকে পুঁজি করেই এগিয়ে থাকতে চাইছেন বিজেপির প্রার্থী স্বপন দাস।





