বহরমপুরে চায়ের দোকানে হামলা, কংগ্রেস কর্মী জখম, তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগে উত্তপ্ত রাজনীতি

মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে মঙ্গলবার রাতে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ,১১ নম্বর ওয়ার্ডেট কংগ্রেস কর্মী জিতেন সাহার উপর হামলা চালানো হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ও বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নারু গোপাল মুখার্জির নেতৃত্বে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ জিতেন সাহা নিজের বাড়ির কাছেই, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। সেই সময় আচমকাই সেখানে হাজির হন নারু গোপাল মুখার্জি। অভিযোগ তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রায় ২০ জন সহযোগী। অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে অনেকেই সশস্ত্র ছিলেন। কোনও রকম প্ররোচনা ছাড়াই জিতেন সাহার উপর চড়াও হন তাঁরা এবং বেধড়ক মারধর করেন।ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় জিতেন সাহাকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা শুধু শারীরিক আক্রমণেই থেমে থাকেনি, বরং হুমকিও দেয়। বলা হয়, জিতেন সাহা যদি কংগ্রেসের সমর্থন চালিয়ে যান, তাহলে তাঁর এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা এনডিপিএস আইনে মামলা দেওয়া হবে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বহরমপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং আক্রান্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে এবং অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছে।ঘটনার পরপরই জেলা কংগ্রেস সভাপতি মনোজ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল জিতেন সাহার বাড়িতে পৌঁছে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয় এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। জেলা নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই বিরোধী দলের কর্মীদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে তারা ভয় পেয়ে রাজনৈতিক কার্যকলাপ থেকে সরে দাঁড়ায়।অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। দলের একাংশের দাবি, ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তৃণমূলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে নারু গোপাল মুখার্জির সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত সামনে আসেনি।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষ দর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। বিরোধী দলগুলি যেখানে শাসক দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছে, সেখানে শাসক দল সেই অভিযোগ খারিজ করে পাল্টা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব তুলে ধরছে। সব মিলিয়ে বহরমপুরের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *