নবান্নের ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা, ভোটে হিংসা,ছাপ্পা রুখতে কড়া ৬ দফা নির্দেশ
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কঠোর অবস্থান নিল নবান্ন। অবাধ, স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে মুখ্যসচিবের পক্ষ থেকে জারি হল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কড়া নির্দেশিকা। ২২ মার্চ প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনও রকম হিংসা, অনিয়ম বা প্রভাব খাটানো বরদাস্ত করা হবে না।রাজ্য প্রশাসনের সব স্তরে এই নির্দেশ কার্যকর করতে ৬টি মূল বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, হিংসামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।ভোট চলাকালীন যে কোনও অশান্তি কঠোর হাতে দমন করা হবে। দ্বিতীয়ত, ভোটারদের ভয়ভীতি থেকে মুক্ত রাখা।কেউ যাতে ভোটদানে বাধা বা হুমকির মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তৃতীয়ত, প্রলোভনমুক্ত নির্বাচন।অর্থাৎ টাকা, উপহার বা অন্য কোনও প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। চতুর্থ, ছাপ্পা ভোট রুখতে কঠোর নজরদারি।জাল ভোট বা ভুয়ো পরিচয়ে ভোটদানের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম, বুথ দখল প্রতিরোধ।ভোটকেন্দ্রে অবৈধ জমায়েত, বুথ জ্যামিং বা দখলদারির কোনও প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।ষষ্ঠ, ভোটারদের যাতায়াতে বাধা রুখতে বিশেষ নজর। ‘সোর্স জ্যামিং’ বা ভোটারদের বাড়ি থেকে বেরোতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর সঙ্গে সরকারি কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি যাতে কোনও ভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়ে সব স্তরের সরকারি আধিকারিক ও কর্মীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। কোনও গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।নবান্ন সূত্রে খবর, এই নির্দেশিকা শুধু রাজ্য সরকারের দফতরেই সীমাবদ্ধ নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, পুরসভা এবং পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত প্রতিটি কর্মীর কাছে তা পৌঁছে দিতে হবে। এমনকি নির্দেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ মার্চ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নির্দিষ্ট ইমেল আইডিতে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তটলরফপশাসনের এই আগাম তৎপরতা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতের নির্বাচনে ওঠা অভিযোগ এবং অশান্তির অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখেই এবার আগে থেকেই কঠোর অবস্থান নিচ্ছে রাজ্য সরকার বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।সরকারের মূল লক্ষ্য, প্রতিটি ভোটার যেন নির্ভয়ে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। সেই লক্ষ্যেই ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা দিয়ে প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে—নিয়ম ভাঙলে কোনও রকম ছাড় নেই।





