আলুর ক্ষেতে রাজনীতি, জলে নেমে চাষীদের পাশে বিজেপি প্রার্থী, ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ তৃণমূলের

উত্তরবঙ্গে টানা দু’দিনের অকাল বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মালদহের আলুচাষিরা। জেলার প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির আলুক্ষেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। মাঠে জমে থাকা জলে নষ্ট হচ্ছে ফসল।বাজারে আলুর দামও তলানিতে।সব মিলিয়ে চরম সঙ্কটে কৃষকরা।এই পরিস্থিতিতেই রবিবার নির্বাচনী প্রচারে নেমে সরাসরি ক্ষেতে গিয়ে চাষীদের সঙ্গে আলু তোলার কাজে অংশ নিলেন মালদহ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহা। মহিষবাথানি পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন গ্রামে জনসংযোগ সেরে তিনি সহরা এলাকায় জল কাদা মাড়িয়ে নেমে পড়েন আলু তোলার কাজে। চাষীদের পাশে থাকার বার্তা দিতে গিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, “এই সরকার কৃষক বিরোধী। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কোনও উদ্যোগ নেই।”

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে এলাকায় কার্যত দেখা মেলেনি বিধায়কের। ভোটের মুখে হঠাৎ করে মাঠে নেমে আলু তোলা ‘পুরোটাই নাটক’ বলেই দাবি তাদের। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কটাক্ষ, “ভোট এলেই শুধু সাধারণ মানুষের কথা মনে পড়ে। এতদিন কোথায় ছিলেন? এখন ছবি তুলে সহানুভূতি কুড়ানোর চেষ্টা করছেন।”অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের দায়িত্ব। রাজনৈতিক কটাক্ষের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে থাকার বার্তাই দিতে চেয়েছেন প্রার্থী।

এদিকে, বাস্তব চিত্র আরও উদ্বেগজনক। মাঠে জমে থাকা জলে আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। অনেক চাষী বাধ্য হয়ে কাদা জলে নেমে দ্রুত আলু তুলতে শুরু করেছেন, যাতে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো যায়। কিন্তু বাজারে সঠিক দাম না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির বোঝা আরও বাড়ছে।রাজনৈতিক তরজার মাঝেই প্রশ্ন উঠছে।এই প্রতিশ্রুতি ও কটাক্ষের বাইরে আদৌ কি চাষীদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে? নাকি ভোট মিটলেই ফের একই সঙ্কটে পড়তে হবে মালদহের কৃষকদের?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *