রামনবমীর আগে কড়া নজরদারি, শিবপুর থেকে সন্ধ্যাবাজার পর্যন্ত জি টি রোডে পুলিশের রুট মার্চ, শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রায় জোর
আগামী পরশু রামনবমীকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করতে আগেভাগেই মাঠে নেমে পড়ল হাওড়া সিটি পুলিশ। শোভাযাত্রার নির্ধারিত রুটে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। সেই লক্ষ্যেই শিবপুরের কাজী পাড়া থেকে সন্ধ্যাবাজার পর্যন্ত জি টি রোড ধরে হেঁটে পরিদর্শন করলেন পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদীসহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামনবমীর দিন এই রুট দিয়েই একাধিক শোভাযাত্রা যাওয়ার কথা। অতীতে এই এলাকাই সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ এবং ২০২৩ সালে রামনবমী ঘিরে অশান্তির ঘটনা প্রশাসনের কাছে এখনও দগদগে হয়ে আছে।তাই এবছর কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ পুলিশ।পরিদর্শনের সময় রুটের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, গলিপথ, বাজার এলাকা এবং জনবহুল অংশ খতিয়ে দেখা হয়। কোথায় ব্যারিকেড বসানো হবে, কোথায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন প্রয়োজন, কোথায় নজরদারি ক্যামেরা বসানো দরকার,সব দিকেই খুঁটিনাটি নজর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় থানার আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেন কমিশনার, যাতে রামনবমীর দিন মাঠপর্যায়ে কোনও সমন্বয়ের ঘাটতি না থাকে।পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনওরকম আপস করা হবে না। শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনই আমাদের মূল লক্ষ্য।” প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রুটজুড়ে থাকবে কড়া পুলিশি নজরদারি, সিসিটিভি মনিটরিং এবং প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে।এছাড়াও, গোটা এলাকায় কুইক রেসপন্স টিম (QRT), র্যাফ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। যে সমস্ত জায়গায় আগে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, সেগুলিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও নজর রাখা হবে, যাতে কোনও গুজব বা উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত না হয়।স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছে পুলিশ। প্রশাসনের তরফে সকলকে সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে উৎসবের দিনে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।সব মিলিয়ে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবছর রামনবমীকে ঘিরে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই এগোচ্ছে হাওড়া সিটি পুলিশ। লক্ষ্য একটাই—উৎসব হোক শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন।





